August 9, 2026, 9:55 am
গৌতম বুদ্ধ পাল:
গত ৩/৪ দিন আগে মায়ের জ্বর আর খুশখুশি কাশিঁ দেখা দেয়। আপাতত নাপা এস্কট্রা দেই, জ্বর না কমাতে- বিশ্বাস না হওয়া সত্বেও ৩৩৩ তে কল করি। প্রায় ৫ মিনিট অপেক্ষার পর একজন কল ধরে এবং আমার বক্তব্য শুনতে চায়।
তিনি একজন ডাক্তার এবং আমার পুরো বক্তব্য শুনার পর একটি প্রেসক্রিপশন বলে দেয়। ব্যাপারটা ভালো লেগেছে, যে ঘরে বসেই ডাক্তারের সাথে কথা বলে প্রেসক্রিপশন নিতে পারছি।
টিভিতে ফেসবুকে দেখতেছি আপনার সাহায্যের প্রয়োজন হলে ৩৩৩ তে কল দিন। আমরা আপনার বাড়িতে ত্রাণ পৌঁছে দিব। কিন্তু সেটা কি বাংলাদেশে সম্ভব? বিশ্বাস না হওয়াতে আবারও কল দিলাম ৩৩৩ তে। প্রায় ৭ মিনিট কল দেওয়ার পর একজন কল ধরলো।
গত তিন দিন আগের লেখা যা আমি ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে প্রকাশ করি । ( আমি কথা বলছি মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার কমলগঞ্জ পৌরসভা ৮নং ওয়ার্ডের পশ্চিম কুমড়াকাপন গ্রাম থেকে। গ্রামে প্রায় ২০০ পরিবারের বসবাস তার মধ্যে থেকে প্রায় ৭০ পরিবারের মতো পৌরসভার অধীনে আর বাকি পরিবারগুলো কমলগঞ্জ ৫নং সদর ইউনিয়নের অধীনে।
সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী ঘরে থাকুন কর্মসূচির আজ ১৬ তম দিন। গ্রামের ৯৫ শতাংশ পরিবার গরীর মধ্যবিত্ত বা আর্থিকভাবে অসচ্ছল। পাশেই ভানুগাছ বাজার গ্রামের মানুষের আয় রোজগার এই বাজারকেই ঘিরে কিন্তু বাজারের পরিস্থিতি ভালো নয়। নিত্য প্রয়োজনীয় দোকানপাট ছাড়া বাকি সবগুলো দোকানই বন্ধ তাই অনেকেরই আয় রোজগারও বন্ধ।
এবস্থায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের এগিয়ে আসা উচিত ছিল কিন্তু কেউ আসেনি। সরকারি – বেসরকারি বা কোন সংগঠন থেকেও কেউ ত্রাণ বা সহযোগিতার জন্য আসেনি।মানবিক দিক বিবেচনা করে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। আপনারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় ত্রাণ বা সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। পশ্চিম কুমড়াকাপন গ্রামের অসহায় গরীব আর্থিক অসচ্ছল পরিবারের এই দুঃসময়ে এগিয়ে আসুন। )
কলটি অবশ্য আমার মোবাইল থেকে করিনি। আমার গ্রামের এক বন্ধুর মোবাইল থেকে করেছিলাম। কারণ সেই আমাকে বলেছিল যদি এই নিদানের দিনে কেউ আমাদের সাহায্যে এগিয়ে আসতো। শুনলাম কোন জায়গায় কল দিলে নাকি বাড়িতে ত্রাণ পৌঁছে দেয় সেই কৌতূহল থেকে কল দেয়া। একজন কল ধরল, বলল কোথা থেকে বলছেন নামটি বলে প্রশ্নটি করুন কি জানতে চান? তারপর- আমি গৌতম পাল ফোন দিয়েছি মৌলভীবাজার থেকে। আমার গ্রামে প্রায় ১৫০ পরিবার তার মধ্যে ৮০-১২০ পরিবার নিম্ন আয়ের। তাদের জন্য এখন পর্যন্ত সরকার থেকে কেউ এগিয়ে আসেনি। তারা কোন ত্রাণ বা সাহায্যে পায়নি।
ফোনের ওপারে থাকা মেয়েটি আমার পুরো তথ্য নিলো এবং বলল আমরা আপনার এলাকার ডিসি, ইউএনও, মেয়র বা এলাকার জনপ্রতিনিধির কাছে আপনার তথ্যটি পাঠিয়ে দিব উনার যথা সম্ভব আপনার সমস্যা শুনে বুঝে আপনাদের আপনার সহযোগিতায় এগিয়ে আসবেন।আবারও বলছি ফোনটি আমার মোবাইল নাম্বার থেকে করিনি, বন্ধুর মোবাইল থেকে।
৩৩৩ আমার সকল তথ্য নেয়ার ঘন্টা দুয়েক পরে আমার বন্ধুর মোবাইলে কল আসে কলটি করেছেন আমাদের এলাকার মেয়র জনাব জুয়েল আহমদ। তুমি কি গৌতম বলছ, না স্যার আমি সাগর (ছদ্দনাম)সঙ্গত কারণে নামটি প্রকাশ করছি না, তাহলে গৌতম কে? স্যার সে আমার বন্ধু। তাহলে ত্রাণ লাগবে কার? তোমার না গৌতমের, স্যার আমার। তাহলে তুমি গৌতমকে নিয়ে তাড়াতাড়ি করে আমার বাসায় এসে দেখা করো।সাথে সাথে সাগর আমাকে ফোন দিল, মেয়র কল দিছেন উনার বাসায় গিয়ে দেখা করার জন্য সাথে তকেও যাওয়ার জন্য বলেছেন। তার কিছুক্ষণ পর মেয়রের ফোন আমার বাসায় আসা লাগবে না তোমরা ভানুগাছ বাজারে চলে এসো আমি আসতেছি। ৩য় কল তোমরা কই তাড়াতাড়ি এসো আমি ওমুকের দোকানে বসা।
তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে রওনা, তার একটু আগে মাত্র দুপুরের খাবার খেয়ে বিছানায় শুয়েছিলাম। উনার সাথে দেখা হলো, তুমি ৩৩৩ তে কল দিছিলা, এই তুমি না গোবিন্দ পালের ছেলে? ঝ্বি চাচা! (বলা বাহুল্য তিনি আমার বাবাকে চিনেন) তাহলে তোমার পড়ালেখা কেমন চলতেছে? ঝ্বি চাচা ভালোই। চাচা, ও আমার গ্রামের বন্ধু ওর আপনার সাহায্যের দরকার আর আমি শুধু ওর জন্য বলি নাই গ্রামের অনেকের ত্রাণ পাবার আশায় কল দিছিলাম। মেয়র -আপাতত এটা নাও, আর যাদের দরকার সবার কাছে ত্রাণ পৌঁছাবে।
আর ৩৩৩ তে কল করে একটা ধন্যবাদ জানাইয়বা চাচা, কইও মেয়র সাবে তোমার কলের প্রেক্ষিতে ত্রাণ পাঠাইছইন। এভাবে যদি সকলের কাছে সাহায্য পৌঁছে যেত । মানুষ ঘরে থাকবে মানুষ করোনাকে মোকাবেলা করতে চায়, যদি তার দুবেলা খাবার জুটে যায়। মানুষ পেটের চিন্তায় করোনার মতো মহামারিকে ভয় করছে না। আমরা নিশ্চই করোনা মুক্ত হবো একদিন। ত্রাণ আর সাহায্য নয় স্বয়ংসম্পুর্ণ হয়ে ।
ধন্যবাদ মেয়র। এভাবেই যেন সকলের কাছে সাহায্যে পৌঁছে দেন। ধন্যবাদ ৩৩৩, এতো দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে ভাবতেই অবাক লাগতেছে।
লেখকঃ ব্লগার । সাবেক শিক্ষার্থী কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, লিডিং ইউনির্ভাসিটি, সিলেট।